আযানের দোয়া | আযানের সময় বিশ্ব মুহাম্মদ (সাঃ) যে দোয়া পড়তেন

অন্য হাদিসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন, যে ব্যক্তি মুয়াজ্জিনের আজানের পর প্রচলিত দোয়াটি পাঠ করবে, তার জন্য প্রিয়নবি শাফায়াত করবে।

আযানের দোয়া | আযানের সময় বিশ্ব মুহাম্মদ (সাঃ) যে দোয়া পড়তেন
আযানের দোয়া | আযানের সময় বিশ্ব মুহাম্মদ (সাঃ) যে দোয়া পড়তেন

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ইবাদতে একনিষ্ঠ ব্যক্তির অল্প আমলই নাজাতের জন্য যথেষ্ট।’ এমন অনেক ইবাদত ও আমল রয়েছে, যা আমরা জানি কিন্তু মানি না বা পালন করি না। অথচ যা পালন করা সহজ; আর তাতে সাওয়াব ও উপকারিতা রয়েছে অনেক বেশি।

হাদিসে পাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ রকম অনেক সহজ ও জানা আমলের তাগিদ দিয়েছেন। যা করলে গোনাহ মাফ ও শাফায়াত লাভের ঘোষণা দিয়েছেন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর তাহলো-

হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুয়াজ্জিনের আজান শুনে বলবে-

وَ اَنَا اَشْهَدُ اَنْ لَا اِلهَ اِلَّا اللهُ – وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ – وَ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَ رَسُوْلُهُ – رَضِيْتُ بِاللهِ رَبًّا - وَ بِالْاِسْلَامِ دِيْنَا – وَبِمُحَمَّدٍ رَسُوْلَا

উচ্চারণঃ ওয়া আনা আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু, রাদিতু বিল্লাহি রাব্বান, ওয়া বিল ইসলামি দিনান, ওয়া বিমুহাম্মাদিন রাসুলান’ আল্লাহ তাআলা তার গোনাহ মাফ করে দেন।’ (তিরমিজি, মুসলিম, ইবনে মাজাহ)

আযানের দোয়া | আযানের সময় বিশ্ব মুহাম্মদ (সাঃ) যে দোয়া পড়তেন

অন্য হাদিসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন, যে ব্যক্তি মুয়াজ্জিনের আজানের পর প্রচলিত দোয়াটি পাঠ করবে, তার জন্য প্রিয়নবি শাফায়াত করবে। অথচ আমাদের অনেকেই আজান শুনে ঠিকই; অলসত বা খেয়ালের ভুলে উত্তর দেয়া যেমন বিরত থাকে; তেমনি দরূদ ও দোয়া পড়া থেকেও বিরত থাকে।

আরও পড়ুনঃ  অযুর দোয়া | অযুর করার নিয়ম ও বিশ্ব মুহাম্মদ (সাঃ) যে ভাবে অযুর দোয়া পড়তেন

হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনে বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আজান শুনে বলে-

اَللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ – وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَة – اتِ مُحَمَّدَانِ الْوَاسِلَةَ وَ الْفَضِيْلَةَ – وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَّحْمُوْدَانِ الَّذِىْ وَعَدْتَه

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা রাব্বা হাজিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস-সালাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদিলাহ, ওয়াবআছহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাজি ওয়া আদ্তাহ’ তার জন্য কেয়ামতের দিন আমার শাফায়াত ওয়াজিব হবে।’ (তিরমিজি, বুখারি, ইবনে মাজাহ)

এ আমলটিও মুসলিম উম্মাহর জন্য সহজ। শুধু তাই নয়, কোনো ব্যক্তি যদি আজানের পর দোয়ার আগে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করে; তার জন্যও প্রিয়নবির সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যায়।

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর জন্য এ সহজ আমলগুলো যথাযথ আদায় করা জরুরি। সহজ এ আমলগুলো মাধ্যমে আল্লাহর অন্যান্য ফরজ ইবাদত-বন্দেগির প্রতি মানুষ আগ্রহী হয়ে পড়বে। গোনাহমুক্ত জীবন লাভে ধন্য হবে মুসলমান।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আজানের পর উল্লেখিত দোয়া ও দরূদগুলো আদায় করার মাধ্যমে গোনাহমুক্ত জীবন লাভের তাওফিক দান করুন। পরকালে প্রিয়নবির সুপারিশ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।