ডুমুর খাওয়ার উপকারিতা, নিয়ম ও ডুমুর রান্নার রেসিপি

ডুমুর এক ধরনের নরম ও মিষ্টিজাতীয় ফল। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই ডুমুর বানিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। জেনে নিন ডুমুর খাওয়ার উপকারিতা, নিয়ম এবং ডুমুর রান্নার তিনটি রেসিপি।

ডুমুর খাওয়ার উপকারিতা, নিয়ম ও ডুমুর রান্নার রেসিপি
ডুমুর খাওয়ার উপকারিতা, নিয়ম ও ডুমুর রান্নার রেসিপি

ডুমুর এক ধরনের নরম ও মিষ্টিজাতীয় ফল। এটি 'আঞ্জির' নামেই বেশি পরিচিত। ডুমুরের বেশ কয়েকটি প্রজাতির রয়েছে। বাংলাদেশে যেটি পাওয়া যায়, সেটি 'কাকডুমুর' নামে পরিচিত। ফল আকারে বেশ ছোট এবং খাওয়ার অযোগ্য। এটা মূলত পাখিরাই খেয়ে থাকে। তবে বেশ কিছু অঞ্চলে এ ফল তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়। যে ডুমুর ফল হিসেবে খাওয়া হয় তা মধ্যপ্রাচ্যে পাওয়া যায়। এটি আকারে বেশ বড় এবং মিষ্টি। এটি ফল হিসেবে খুবই জনপ্রিয়। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই ডুমুর বানিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। ডুমুর ফল হিসেবে অনন্য।

ডুমুর খাওয়ার উপকারিতা

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যশক্তি, ভিটামিন এ, বি, শর্করা, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও আয়রন। ডুমুরের রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। আসুন জেনে নিই ডুমুরের কিছু উপকারিতার কথা।

ডুমুর খাওয়ার উপকারিতা, নিয়ম ও ডুমুর রান্নার রেসিপি

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে :

ডুমুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। নিয়মিত ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস না থাকলেও আমরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার খেয়ে থাকি। ডায়েটে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে হাইপারটেনশনের সমস্যা হতে পারে। তাই ডায়েটে রাখুন ডুমুর ফল। এর পটাশিয়াম হাইপারটেনশন প্রতিরোধে সাহায্য করবে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে :

খাদ্যআঁশ সমৃদ্ধ ডুমুর ওজন কমাতে সাহায্য করে। ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে আপনার খাদ্যতালিকায় ডুমুর রাখুন। ডুমুর বিদ্যমান পেকটিন রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে :

সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গিয়েছে যে, মেনোপজ পরবর্তী পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে ডুমুর সাহায্য করে। আঁশ সমৃদ্ধ ডুমুর খাদ্যতালিকায় রাখার ফলে ৩৪% মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কম দেখা দিয়েছে।

ডায়াবেটিসের সমস্যায় উপকারী :

ডায়াবেটিসে ডুমুর যেমন উপকারী, তেমনি ডুমুরের পাতাও উপকারী। ডায়াবেটিসে অনেক সময় রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। গবেষণায় জানা গিয়েছে যে, নিয়মিত ডুমুর খেলে ইনসুলিন গ্রহণের পরিমাণ কম করতে সাহায্য করে।

হাড় বৃদ্ধিতে সহায়ক :

ডুমুরে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে। অতিরিক্ত হাই-সল্ট ডায়েট মেনে চললে ইউরিনের মধ্য দিয়ে অনেক ক্যালসিয়াম বেরিয়ে যায়। এই ক্যালসিয়াম লস প্রতিরোধ করতে ডুমুরের পটাশিয়াম সাহায্য করে। এভাবে ডুমুর হাড় বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়া ডুমুর হাড়ের ক্ষয়রোগও প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

হার্ট ভালো রাখে :

গবেষণায় জানা গিয়েছে যে, ডুমুর ও ডুমুরের পাতা ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে হার্ট ভালো থাকে। এছাড়া ডুমুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাংগানিজ। যা বয়েসজনিত কারণের নানা অসুখ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তাই খাদ্যতালিকায় রাখুন ডুমুর।

পেটের সমস্যা দূর করে :

ডুমুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ। ফলে পেটের সমস্যার জন্য ডুমুর খুব ভালো কাজ করে। কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যাও কমাতে সাহায্য করে।

ডুমুরের তিনটি রেসিপি

খুব সহজে এবং তাড়াতাড়ি ডুমুরের এই পদটি তৈরি করা যায়। চলুন জেনে নিই, কী কী উপকরণ লাগবে ডুমুরের রেসিপিতে এবং কীভাবে তৈরি করবেন ডুমুরের লাড্ডু, ডুমুরের নাগেট, ডুমুরের কোফতা কালিয়া

ডুমুরের লাড্ডু রেসিপি

ডুমুর খাওয়ার উপকারিতা, নিয়ম ও ডুমুর রান্নার রেসিপি

ডুমুরের লাড্ডু তৈরির উপকরণ: 
ডুমুর ৫০০ গ্রাম, 
মিষ্টিআলু সেদ্ধ মাঝারি আকারের ২টি, 
ঘি ১ কাপ, 
গুঁড়া দুধ ১ কাপ, 
কনডেন্সড মিল্ক দেড় টেবিল চামচ, 
কাজুবাদাম কুচি ২ টেবিল চামচ,
মোরব্বা কুচি ১ টেবিল চামচ, 
চেরি কুচি সাজাবার জন্য।

ডুমুরের লাড্ডু তৈরির প্রণালি: 

ডুমুর মাঝখান থেকে কেটে ভেতরের বিচি বের করে নিতে হবে। 

পানি গরম করে ডুমুর সেদ্ধ করে নিন। সেদ্ধ হয়ে গেলে পানি ঝরিয়ে মিহি করে নিতে হবে। 

এ ক্ষেত্রে পাটায় বেটে অথবা ব্লেন্ডারে মিহি করে নেওয়া যেতে পারে। কারণ, হাত দিয়ে চটকে নিলে পুরোপুরি মিহি হবে না। 

ডুমুরের সঙ্গে সেদ্ধ মিষ্টিআলু চটকে মিশিয়ে নিন। 

প্যানে ঘি গরম করে ডুমুরের মিশ্রণটি দিয়ে ভালোভাবে নাড়তে হবে। 

এবার এতে চিনি মেশান। চিনি গলে পানি বের হলে এতে গুঁড়া দুধ এবং কনডেন্সড মিল্ক দিতে হবে। ঘন ঘন নাড়ুন। 

মিশ্রণটি আঠালো হয়ে এলে কাজুবাদাম এবং মোরব্বা কুচি মিশিয়ে চুলা বন্ধ করতে হবে। 

এবার একটি ছড়ানো ডিশে মিশ্রণটি ঢেলে ঠান্ডা করুন। দুই হাতে ঘি মেখে মিশ্রণটি অল্প করে হাতের তালুতে নিয়ে গোল গোল করে লাড্ডু বানান। 

গুঁড়া দুধে লাড্ডুগুলো গড়িয়ে চেরি কুচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে ভিন্ন স্বাদের ডুমুরের লাড্ডু।

ডুমুরের নাগেট রেসিপি

ডুমুর খাওয়ার উপকারিতা, নিয়ম ও ডুমুর রান্নার রেসিপি

ডুমুরের নাগেট তৈরির উপকরণ:

ডুমুর ৫০০ গ্রাম, 
আলু মাঝারি আকারের ১টি, 
শুকনা মরিচ বাটা ১ টেবিল চামচ, 
হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, 
গরমমসলা আধা চা-চামচ, 
জিরা বাটা আধা চা-চামচ, 
ধনে বাটা আধা চা-চামচ, 
লবণ স্বাদমতো, 
ডিম ১টি, 
ব্রেড ক্রাম্ব ২ কাপ, 
তেল ভাজার জন্য।

ডুমুরের নাগেট তৈরির প্রণালি: 

ডুমুর ও আলু সেদ্ধ করে হাত দিয়ে চটকে নিন।

এবার এতে ডিম ছাড়া বাকি সব উপকরণ মিশিয়ে নাগেটের আকার গড়ে নিন। 

ডিম ফেটিয়ে নাগেটগুলো ডিমে ডুবিয়ে ব্রেড ক্রাম্বে গড়িয়ে ডুবো তেলে বাদামি করে ভাজলেই তৈরি হয়ে যাবে ডুমুরের নাগেটস। 

সসের সঙ্গে গরম-গরম পরিবেশন করুন।

ডুমুরের কোফতা কালিয়া রেসিপি

ডুমুর খাওয়ার উপকারিতা, নিয়ম ও ডুমুর রান্নার রেসিপি

ডুমুরের কোফতা কালিয়া তৈরির উপকরণ:

ডুমুর ৫০০ গ্রাম, 
ময়দা আধা কাপ, 
মরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ, 
হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, 
গরমমসলা গুঁড়া ১ চা-চামচ, 
জিরা গুঁড়া ১ চা-চামচ, 
ধনে গুঁড়া ১ চা-চামচ, 
পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, 
কাঁচা মরিচ কুচি ১ টেবিল চামচ, 
রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, 
টক দই ১ কাপ, 
লবণ স্বাদমতো, তেল ২ কাপ।

ডুমুরের কোফতা কালিয়া তৈরির প্রণালি: 

ডুমুর মাঝখান থেকে কেটে ভেতরের বিচি বের করে গরম পানিতে সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে মিহি করে বেটে নিন। 

ডুমুরের সঙ্গে ময়দা এবং আধা চা-চামচ করে জিরা গুঁড়া, ধনে গুঁড়া, গরমমসলা গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, মরিচ কুচি ও লবণ দিয়ে সামান্য পানি নিয়ে মাখিয়ে গোল করে তেলে ভাজুন। 

খেয়াল রাখতে হবে যেন বেশি ভাজা না হয়ে যায়। কারণ, গ্রেভি করার সময় ভেতরে মসলা ঢুকবে না। 

অন্য একটি পাত্রে তেল গরম করে একে একে পেঁয়াজ কুচি এবং বাকি মরিচ গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, কাঁচা মরিচ কুচি, গরমমসলা গুঁড়া, জিরা গুঁড়া ও ধনে গুঁড়া দিয়ে ভুনে নিতে হবে। 

এবার এতে টক দই দিয়ে একটু নেড়েচেড়ে ডুমুরের কোফতাগুলো দিয়ে দিন। 

মসলা মাখা মাখা হলে চুলা বন্ধ করে ভাত অথবা পরোটার সঙ্গে পরিবেশন করতে হবে।