অযুর দোয়া | অযুর করার নিয়ম ও বিশ্ব মুহাম্মদ (সাঃ) যে ভাবে অযুর দোয়া পড়তেন

নামাজের জন্য প্রথম শর্ত ভালোভাবে অজু করা। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই না জানার কারণে অজুতে বিভিন্নরকম ভুল করে থাকেন সুতরাং ওজুর দোয়া ও নিয়ম চিত্রসহ দেখানো হল...

অযুর দোয়া | অযুর করার নিয়ম ও বিশ্ব মুহাম্মদ (সাঃ) যে ভাবে অযুর দোয়া পড়তেন
অযুর দোয়া | অযুর করার নিয়ম ও বিশ্ব মুহাম্মদ (সাঃ) যে ভাবে অযুর দোয়া পড়তেন

নামাজের জন্য প্রথম শর্ত ভালোভাবে অজু করা। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই না জানার কারণে অজুতে বিভিন্নরকম ভুল করে থাকেন। আর এ কারণে বাতিল হতে পারে আপনার নামাজ। এ জন্য নামাজের আগে অবশ্যই ভালোভাবে অজু করে নেয়া জরুরি।

পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তোমরা তোমাদের মুখম-ল ও দুই হাত কনুইসহ ধৌত করবে এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করবে, আর দুই পা গোড়ালিসহ ধৌত করবে।’

অজু কী?

অজু অর্থ হলো পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা। শরিয়তের পরিভাষায় পরিষ্কার পানি দ্বারা মুখম-ল, হাত ও পা ধৌত করা এবং মাথা মাসেহ করাকে অজু বলে।

 

অযুর দোয়া | অযুর করার নিয়ম ও বিশ্ব মুহাম্মদ (সাঃ) যে ভাবে অযুর দোয়া পড়তেন

অজুর নিয়ত

নাওয়াইতুআন আতা ওয়াজ্জায়া লিরাফয়িল হাদাছি, ওয়াসতি বাহাতাললিচ্ছলাতি ওয়া তাকাররুবান ইল্লাল্লাহি তায়ালা।
অর্থঃ আমি পবিত্রতা অর্জন, নামাজ আদায় এবং আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভ করার জন্য অজু করছি।
অজুর দোয়াঃ বিছমিল্লাহিল আলিয়্যিল আজীম, আলহামদু লিল্লাহি আলা দ্বিনীল ইসলাম। আল ইসলামু হাককুও ওয়াল কুফরু বাতিলুন। আল ইসলামু নূরুও ওয়াল কুফরু জুলম্যতুন।
অর্থঃ মহান ¯্রষ্টা আল্লাহ পাকের নামে আরম্ভ করছি। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তায়ালারই জন্য যিনি আমাকে দ্বীন ইসলামের ওপর রেখেছেন। ইসলাম সত্য ও সঠিক এবং কুফুরি মিথ্যা। ইসলাম আলোকময় এবং কুফুরি অন্ধকারাচ্ছন্ন।

অযুর দোয়া

বাংলা উচ্চারণঃ ( আলহামদুলিল্লাহি আলা দ্বীন-ই ইসলাম, আলইসলামু-হাক্কু, ওল কুফরে বাতীলুন, ওল ইসলামু নূরুন, ওল কুফরে জুল্বমাত )

ওজুর ফরজ চারটি

  • মুখম-ল ধৌত করা।
  • দুই হাত কনুইসহ ধৌত করা।
  • মাথার চার ভাগের এক ভাগ মাসেহ করা এবং
  • দুই পা টাখনুসহ ধৌত করা।
  • এছাড়াও আমরা যে মিসওয়াক করি, শুরুতে কব্জি পর্যন্ত হাত ধুই, গড়গড়ায়ে কুলি করি বা নাকে পানি দেই এগুলো সুন্নত।
  • তাই পরিপূর্ণ ওজু করতে গেলে অবশ্যই তিনবার করে এগুলোও পালন করতে হবে।

অজুতে ১২ টি সুন্নত

  • অজুর নিয়ত করা।
  • বিছমিল্লাহ ও দোয়া পড়া।
  • দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করা।
  • মিছওয়াক করা।
  • গড়গড়ার সাথে তিনবার কুলি করা।
  • নাকে তিনবার পানি দেয়া।
  • প্রত্যেক অঙ্গকে তিনবার করে ধৌত করা।
  • প্রথমে ডান দিক হতে ধৌত করা।
  • হাত ও পায়ের আঙ্গুলসমূহ খিলাল করা।
  • সমস্ত মাথা একবার মাছেহ করা।
  • এক অঙ্গ শুকানোর আগে অন্য অঙ্গ ধৌত করা।
  • কোনো অঙ্গে যেন পশম পরিমাণ জায়গা শুকনো না থাকে সে দিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা।

অজুতে ৯টি মুস্তাহাব

  • দুনিয়াবী কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা।
  • অঙ্গ ধোয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
  • কান ও ঘাড় মাছেহ করা।
  • দাড়ি খিলাল করা।
  • অপরের সাহায্য না নেয়া।
  • কেবলামুখী হয়ে বসে অজু করা।
  • পবিত্র ও উচুস্থানে বসে অজু করা।
  • উভয় কানের ছিদ্রে শাহাদাত আঙ্গুল প্রবেশ করানো।
  • অজুর শেষে কালিমায়ে শাহাদাত ও দোয়া পাঠ করা।

ওজু শেষের দোয়া

ওজু শেষ হওয়ার পর নিচের দোয়াটি পড়তে হবে, ‘আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ।’
অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসুল।

আরো পড়ুনঃ বিশ্ব মুহাম্মদ (সাঃ) ঘুমানোর আগে ও পরে যে দোয়া পড়তেন

ওযুর মাকরূহ সমুহ

১. অযুর সুন্নত সমুহের যে কোন সুন্নত ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিলে অযু মাকরূহ হবে।
২. প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যয় করা।
৩. মুখমন্ডল ধৌত করার সময় সজোরে মুখে পানি নিক্ষেপ করা।
৪. বিনা ওজরে বাম হাত দ্বারা কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার এবং ডান হাতে নাক পরিস্কার করা।
৫. অপবিত্র স্থানে অযু করা।
৬,. মসজিদের মধ্যে অযু করা,তবে কোন পাত্রের মধ্যে অযু করা জায়েয।
৭. কফ্‌কাশী বা নাকের ময়লা অযুর পানির মধ্যে নিক্ষেপ করা।
৮. বিনা কারনে অন্যের সাহায্য নেওয়া।

অযুর প্রকারবেদঃ অযু পাঁচ প্রকার ফরজ,ওয়াজিব,সুন্নত,মাকরূহ ও হারাম ওযু।

১. সকল প্রকার নামায পড়া ও কোরআন শরীফ তেলয়াতের জন্য এবং সেজদার তেলয়াতের জন্য অজু করা ফরজ।
২. কাবা শরীফ তওয়াফ করার জন্য ওয়াজিব।
৩. মোস্তাহাব বা সুন্নত ওযু হলো যা শরীর পাক রাখার জন্য করা হয় অর্থাৎ সব সময় ওজু রাখা সুন্নত।
৪. অযু করে কোন ইবাদত না করে সেই অযু থাকা অবস্থায় নতুন অযু করা মাকরূহ।
৫. হারাম অযু হলো কারো মালিকাধীন পানি জোরপুর্বক নিয়ে কিংবা ইয়াতীমের সংরক্ষিত পানি দিয়ে অযু করা হারাম।

ওযু ভঙ্গের কারণ সমূহঃ

১. পায়খানা প্রস্রাবের রাস্তা দিয়া কোন কিছু বের হওয়া
২. মুখ ভরে বমি হওয়া
৩. শরীরের কোন জায়গা হতে রক্ত, পুঁজ বা পানি বের হয়ে গড়িয়ে পড়া
৪. থুথুর সাথে রক্তের ভাগ সমান বা বেশি হওয়া
৫. চিৎ বা কাত হয়ে হেলান দিয়ে ঘুম যাওয়া
৬. পাগল, মাতাল, অচেতন হওয়া এবং
৭. নামাযে উচ্চস্বরে হাসা।