ডেঙ্গু লক্ষন সমূহ, হলে করনীয়, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

সাম্প্রতিক সময়ের এক ভয়াভয় আতঙ্ক এর নাম ডেঙ্গু, সুতরাং জেনে রাখুন ডেঙ্গু লক্ষন সমূহ, ডেঙ্গু হলে করনীয় কি, এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে।

ডেঙ্গু লক্ষন সমূহ, হলে করনীয়, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

সাম্প্রতিক সময়ের এক ভয়াভয় আতঙ্ক এর নাম ডেঙ্গু। বর্ষা এলেই ঢাকাসহ সারা দেশ জুড়ে শুরু হয় এই আতঙ্কের। ডেঙ্গু মূলত ভাইরাস বাহিত একটি রোগ যা শুধুমাত্র এডিস ইজিপটি নামক একটি বিশেষ মশার কামড়ে সংক্রমিত হয়। এডিস মশার গায়ের সাদা ছোপ ছোপ দাগ থেকে অন্যান্য মশা থেকে একে আলাদা ভাবে চেনা যায়। এই মশা ঘন জঙ্গলে থাকে না বরং মানুষের আবাসস্থলে, পর্দার ভাজে, স্যাঁতস্যাঁতে স্থানে, বেসিন বা কমোডের নিচে। একই ভাবে বড় কোন জলশয়ে নয় বরং ছোট দোবা নালা, ফুলের টবে জমে থাকা পানি, রাস্তার ধারে জমে থাকা পানি ইত্যাদি স্থানেই এরা বংশ বৃদ্ধি করে।

ডেঙ্গুর লক্ষণঃ

ডেঙ্গু জ্বরের সাধারণত তীব্র জ্বর হয় যা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। শরীরের বিভিন্ন অংশ বিশেষ করে হাড়ের জয়েন্টে, কোমর, পিট মাংস পেশিতে প্রচন্ড ব্যাথা হয়।মাথা ব্যাথা এবং চোখের পেছনের অংশেও ব্যাথা হতে পারে।জ্বর হবার চার বা পাঁচ দিনেই শরীরে লালচে দানা দেখা দেয় যা অনেকটা ঘামাচির মত দেখতে। রুগীর বমি বা বমিবমিভাব হতে পারে। অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করবে এবং খাবারে অরুচি চলে আসবে।ডেঙ্গু জটিল আকার ধারন করলে শরীরের বিভিন্ন স্থান হতে রক্ত ক্ষরণ দেখা দিতে পারে(যেমন দাঁতের মাড়ি,কফ,মলের সাথে)।

ডেঙ্গুর চিকিৎসাঃ

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগী সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই নিজে নিজে ভাল হয়ে যায়। তবে অবস্থা জটিল আকার ধারণ করলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গু ভাল না হওয়া পর্যন্ত রোগীকে যথাযথ বিশ্রামে থাকতে হবে। বেশি বশি বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে, শরবর, ডাবের পানি, খাবার স্যালাইন অথবা অন্যান্য তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে। খাবার অরুচি আসলে শিরা পথেও স্যালাইন দেওয়া যেতে পারে। জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে তবে ব্যাথা সাধক কোন ধরনের ঔষধ খাওয়া যাবে না। এতে রক্ত ক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। জ্বর কমানোর জন্য মাঝে মাঝে ভেজা তোয়ালে বা কাপুড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধঃ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হলে অবশ্যই আমাদের বাড়ির আসপাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ছোট খাাটো যে সকল স্থানে পানি জমে থাকবে সে সকল স্থান থেকে পানি ফেলে দিতে হবে বা জমতে দেওয়া যাবে না(যেমন ফুলের টব,কৌটা,ডাবের খোলা,পরিত্যাক্ত টায়ার ইত্যাদি)। এডিস মশা সাধারনত সকালে এবং সন্ধ্যায় কামড়ায় তাই মশারি ব্যবহার করতে হবে। প্রইয়োজনে মস্কোইত ইন্সেক্টস রিপিল্লেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরের দরজা-জানালয় নেট লাগানো সম্ভব হলে আরো ভাল হয়। মশারী, মশা মারা স্প্রে, কোয়েল ছাড়া দিনে বা রাতে কখনো ঘুমানো উচিত নয়। নিজে সচেতন হোন এবং অন্যকেও সচেতন করে তুলুন ডেঙ্গু প্রতিরোধে।

ট্যাগ সমুহঃ ডেঙ্গু, ডেঙ্গু লক্ষন, ডেঙ্গু হলে করনীয়, ডেঙ্গুর প্রতিরোধ, ডেঙ্গুর চিকিৎসা, এডিস মশা, ডেঙ্গু ভাইরাস, ভাইরাস, ডেঙ্গু রোগ, ডেঙ্গু জ্বর, ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষন, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত, ডেঙ্গু রুগীর লক্ষন, ডেঙ্গুর ঝুঁকি, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ উপায়, ইত্যদি।

বিঃদ্রঃ ডেঙ্গু বিষয় আপনার কোন প্রকার প্রশ্ন থাকলে মন্তব্যতে জানাতে পারেন, আমি চেষ্টা করবো আপনার প্রশ্নে উত্তর দিতে। ধন্যবাদ

ছবিঃ ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত