মিঠুন চক্রবতীর, দুই বংলার সেরা নায়ক মিঠুন চক্রবতীর জীবন কাহিনী

এক সময় খাবার না পাওয়া ছেলেটিই আজ দুই বংলার সেরা নায়ক মিঠুন চক্রবতীর জেনে নিন নায়ক মিঠুন চক্রবতীর জীবন কাহিনী

মিঠুন চক্রবর্তী ভারতের একজন খ্যাতিমান চলচ্চিত্র অভিনেতা, সমাজ সংগঠক এবং উদ্যোক্তা। শৈশবে 'গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী' নামে বাংলাদেশের বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মৃগয়া (১৯৭৬) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার অভিষেক ঘটে। এ ছবির মাধ্যমেই তিনি 'সেরা অভিনেতা' হিসেবে ভারতের 'জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার' লাভ করেন। বর্তমানে তিনি পরশ টিভি'র প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন।

মিঠুন চক্রবর্তী

Mithun Chakraborty (5.26.2013).jpg

মিঠুন চক্রবর্তী (মে ২০১৩)

জন্ম

গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী ১৬ জুন ১৯৫০ (বয়স ৬৯)
বরিশাল বাংলাদেশ

যেখানের শিক্ষার্থী স্কটিশ চার্চ কলেজ
ভারতীয় ফিল্ম ও টেলিভিশন সংস্থা
পেশা অভিনেতা
মনোরঞ্জক
টিভি উপস্থাপক
ভারতীয় সংসদসদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তি
কার্যকাল ১৯৭৬ - বর্তমান
দাম্পত্য সঙ্গী

হেলেনা লুক (বিবাহ বিচ্ছেদ),

শ্রীদেবী (বিবাহ বিচ্ছেদ),

যোগিতা বালি (১৯৭৯ - বর্তমান)

সন্তান মহাক্ষয় চক্রবর্তী
রিমোহ চক্রবর্তী
নমাসী চক্রবর্তী
দিশানী চক্রবর্তী

তিনি এ পর্যন্ত ৩০০ টিরও অধিক হিন্দী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলা, পাঞ্জাবী, তেলেগু, ওড়িয়া, ভোজপুরী চলচ্চিত্রেও অংশ নিয়েছেন। তিনি মনার্ক গ্রুপের স্বত্ত্বাধিকারী, যা অতিথি সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। মিঠুন চক্রবর্তী ২০০৯ সাল থেকে রিয়েলিটি টিভি সিরিজ ডান্স ইন্ডিয়া ডান্সে প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন৷

মিঠুন চক্রবতীর, দুই বংলার সেরা নায়ক মিঠুন চক্রবতীর জীবন কাহিনী

মিঠুন চক্রবর্তীর শৈশবকাল ও শিক্ষাজীবন

মিঠুন চক্রবর্তী বাংলাদেশের বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। 'অরিয়েন্টাল সেমিনারী'তে শিক্ষাজীবন শুরু করেন মিঠুন। তিনি বরিশাল জিলা স্কুলে পড়েছিলেন।পরবর্তীতে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে রসায়নে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন।

মিঠুন চক্রবর্তীর চলচ্চিত্র জগৎ

তিনি জনপ্রিয় পরিচালক মৃণাল সেনের পরিচালনায় মৃগয়া চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রূপালী জগতে প্রবেশ করেন। অসামান্য অভিনয় নৈপুণ্যের জন্য এ ছবির মাধ্যমে তিনি সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। অভিষেকের পর তিনি দো আনজানে (১৯৭৬) এবং ফুল খিলে হ্যায় গুলশান গুলশান (১৯৭৭) ছবি দু'টোয় সহ-চরিত্রে অভিনয় করেন। কিন্তু তাতে তিনি কোন গুরুত্ব ও সফলতা পাননি।

আরো পড়ুনঃ বাংলা সিনেমার কিংবদন্তী নায়ক জসিমের জীবন কাহিনী

মিঠুন চক্রবর্তীর ব্যক্তিগত জীবন

ভারতের সাবেক অভিনেত্রী যোগীতা বালীকে নিয়ে ঘর-সংসার করেন মিঠুন চক্রবর্তী। তাদের ঘরে তিন পুত্র এবং এক কন্যা রয়েছে। জ্যেষ্ঠ পুত্র মিমোহ চক্রবর্তী বলিউডের অভিনেতা। ২০০৮ সালের 'জিমি' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার অভিষেক ঘটে। ২য় পুত্র রিমোহ চক্রবর্তী মিঠুনের পরিচালনায় ফির কাভি (আবার কখনো) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অংশ নেয়। অন্য দুই সন্তান - নমসী চক্রবর্তী এবং দিশানী চক্রবর্তী এখনো পড়াশোনায় ব্যস্ত রয়েছে।

অনেকগুলো সূত্র দাবী করে যে, মিঠুন চক্রবর্তী দক্ষিণ ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শ্রীদেবী'র সাথে প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল। ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে এ সম্পর্ক বজায় ছিল যা শ্রীদেবী পরবর্তীতে সম্পর্ক ছেদ করেন। এর প্রধান কারণ ছিল - প্রথম স্ত্রী যোগীতা বালীকে মিঠুন কর্তৃক বিবাহ-বিচ্ছেদ না ঘটায়। তারা অত্যন্ত গোপনে বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়, যদিও তা পরবর্তীতে অস্বীকার করা হয়।