কোমরে মেদ কমানোর উপায় - Ways to reduce fat in the waist

সৌন্দর্য ও সুস্থার প্রয়োজনে কোমরে মেদ কমানোর উপায় (Ways to reduce fat in the waist) কে না জানতে চায়। কয়েকটি সহজ উপায় দূর করুন কোমরে মেদ,

কোমরে মেদ কমানোর উপায় - Ways to reduce fat in the waist
কোমরে মেদ কমানোর উপায় - Ways to reduce fat in the waist

অনলাইনে শপিং করে মনের মত একটা ড্রেস অর্ডার করলেন। কিন্তু সমস্যা হল যখন ওটি পড়লেন। কারন কেনার সময় মডেলের উপর ড্রেসটি যতটা মানাছিল আপনার ক্ষেত্রে ঠিক তার উল্টো।

এরকম সমস্যা আমাদের রোজ হয়। তার কারন আমাদের শরীরের জমা অতিরিক্ত মেদ। আর মেয়েদের জন্য বিশেষ করে কোমরে জমা চর্বি সবচেয়ে বড় দুসমান। তা বন্ধুরা চিন্তা নেই। আজ থেকে ফলো করুন কয়েকটা সামান্য টিপস আর এবারের পুজোর আগে কোমরের চর্বিকে বলুন বাই।

কোমরে মেদ থেকে মুক্তির জন্য কি কি করবেন না

  • ফ্যাট জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকুন।
  • কোল্ড ড্রিঙ্কস বা অ্যালকোহল খাওয়া বন্ধ করুন।
  • যেকোনো রকমের দুশ্চিন্তা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন। কারন দুশ্চিন্তা করলে তখন হাবিজাবি খাওয়ার ইচ্ছা বেড়ে যায় যা ভালো না।
  • চিনি অতিরিক্ত মাত্রায় খাবেন না। চিনি অ্যাভয়েড করলে সবচেয়ে ভালো হয়। তাছাড়া সুগার জাতীয় খাবারকে এড়িয়ে যান।
  • ফলের রস খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা বন্ধ করুন। তার চেয়ে ভালো গোটা ফল খাওয়া। বা বাজারের প্যাকেট করা ফলের রস না খেয়ে বাড়িতে জুস বানিয়ে খাওয়া।

উপরের এই ৫টি জিনিস যতটা পারবেন এড়িয়ে চলবেন। কারন প্রত্যেকটি জিনিসে থাকা উপাদান শরীরে ফ্যাটের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় দ্রুত। তাই এগুলো না মানলে আপনি জতই লম্ফঝম্ফ করুন না কেন চর্বি এক ইঞ্চিও কমবে না। উপরন্তু আপনার সব ওয়ার্ক আউট বিফলে যাবে।

আরো পড়ুনঃ মেয়েদের ওজন কমানোর কার্যকরী কিছু উপায়

কোমরের চর্বি কমাতে কি কি করবেন

  • ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন টমেটো, ব্রকলি, গাজর, বীট, বেদানা, নেস্পাতি ইত্যাদি খাবার লিস্টে অবশ্যই রাখুন রোজ।
  • হাই প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ, ডিম খান বেশি করে। মাছ খেলে ছোট মাছ বেশি খান। বেশি চর্বি যুক্ত মাছ সপ্তাহে একবারের বেশি খাবেন না।
  • আমরা অনেকেই জানি না যে রান্নার তেলে ভালো পরিমানে ফ্যাট থাকে। তাই বেছে নিন ফ্যাট ফ্রি অয়েল। সেক্ষেত্রে নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন রান্নার জন্য।
  • দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভালোভাবে ৮ ঘণ্টা শান্তিপূর্ণ ভাবে অবশ্যই ঘুমান। এতে হজম শক্তি বাড়ে ফলে খাবার ভালো ভাবে হজম হয়। যা চর্বি জমার হাত থেকে অনেকটা হলেও বাঁচায়।
  • অ্যাপেল সিডার ভিনিগার খাওয়ায় অ্যাড করুন চোখ বন্ধ করে।
  • রোজ সকালে আর খাওয়ার পরে পরেই গ্রিন টি খান দেখবেন ৩০% ফ্যাট এতেই কমে যাবে।

এক্সাসাইজ মাস্ট

এক্সাসাইজ না করলে কিন্তু জমে থাকা চর্বি কমানো সম্ভব হবে না। তাই নিয়মিত নিজের জন্য সকালে বা বিকেলে আর সম্ভব হলে দুবেলা ৩০ মিনিট সময় বের করে ব্যায়াম করুন। দুটি সহজ ব্যায়াম বলে দিচ্ছি এগুলো ঠিক ভাবে করলেই কোমরের চর্বি গলতে শুরু করবে এক সপ্তাহের মধ্যে। চলুন কোমরে মেদ কমানোর দুটি সহজ ব্যায়াম দেখে নেওয়া যাক।

আরো পড়ুনঃ মোটা হয়ে যাচ্ছেন? ওজন কমানোর সহজ ও পরিক্ষীত উপায়

পেলভিক ব্রিজ এক্সাসাইজ স্টেপ বাই স্টেপ

কোমরে মেদ কমানোর উপায় - Ways to reduce fat in the waist

  • সবার প্রথমে সোজা হয়ে শুয়ে পরুন। আপনার দু কাঁধের মধ্যে ঠিক যতটা দূরত্ব ঠিক ততটা দূরত্ব দুটো পায়ের মধ্যে যেন থাকে।
  • এই পজিসানে আসার পর আসতে আসতে কোমর মাটি থেকে উপরের তোলার চেষ্টা করুন। হাত মাটিতে কোমরের পাস থেকে রেখে দিন।
  • কোমর কোন রকম ব্যাথা ছাড়া যতটা উপরে ওঠে ততটাই তুলুন। কয়েকদিন করলে আপনা আপনি কোমর মাটি থেকে বেশি উপরে উঠবে।
  • কোমর মাটি থেকে উপরে তোলার পর মনে মনে দশ গুনুন। নিঃশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।
  • দশ গোনা হয়ে গেলে স্টার্টিং পজিসানে ফিরে এসে আবার করুন। মোট দশবার এটি করুন রোজ।

ওয়াল সিট স্টেপ বাই স্টেপ

কোমরে মেদ কমানোর উপায় - Ways to reduce fat in the waist

  • খুব সোজা এই এক্সাসাইজটি করা।
  • শোবার প্রথমে ঘরের সবচেয়ে পরিষ্কার ও প্লেন দেওয়াল বেছে নিন। এবার দেওয়ালের দিকে পিঠ করে দাঁড়ান।
  • এবার চেয়ারে বসলে ঠিক যেরকম ভাবে পা ভাঁজ হয় ঠিক সে ভাবে পা ভাঁজ করার চেষ্টা করুন। চেয়ার ছাড়া চেয়ারে বসার ভঙ্গিতে যতক্ষণ পারেন বসুন ঠিক এভাবে।
  • পা ব্যাথা করলে উঠে দাড়িয়ে ৩০ সেকেন্ড পর আবার একি ভাবে পুনরায় বসুন। এরকম ভাবে ১০ থেকে ১৫ বার এটি করুন রোজ।

নিয়মিত একমাস এই দুটি ব্যায়ামসহ উপরে যা যা বলা হল তা যদি মেনে চলেন নিজেই অনুভব করবেন যে কোমরের চর্বি কমতে শুরু করেছে।

কোমরে মেদ দ্রুত হ্রাস করার জন্য ৮ দুর্দান্ত সহজ উপায়

পেটের মেদ কমানোর সহজ উপায়

পেটে মেদ বা চর্বি হলে চলা-ফেরায় যেমন কষ্ট হয়, তেমনি নষ্ট হয় সৌন্দর্যও। অনেকে আছেন খুব বেশি মোটা না কিন্তু পেটে অনেক মেদ কিংবা দেহের কিছু কিছু স্থানে মেদ জমায় খুবই অস্বস্তি বোধ করেন। কোনো ভালো পোশাক পড়লেও ভালো লাগে না। শরীরের এই বাড়তি মেদ কিভাবে দূর করা যায় তার কয়েকটি সহজ উপায় পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

কোমরে মেদ দ্রুত হ্রাস করার জন্য ৮ দুর্দান্ত সহজ উপায়

  • প্রতিদিনের সকালটা শুরু হোক লেবুর সরবত দিয়ে। এই পদ্ধতি পেটের মেদ কমানোর সবচেয়ে কার্যকরী ১টি উপায়। ১ গ্লাস হালকা গরম পানিতে লেবু চিপে সরবত করে সঙ্গে একটু লবণ মিশিয়ে নিন। ইচ্ছে হলে একটু মধুও মিশিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু চিনি মিশাবেন না। প্রতিদিন সকালে পানীয়টি পান করুন। এই পানীয় আপনার বিপাক প্রক্রিয়া বাড়িয়ে পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করবে।
  • সাদা ভাত কম খান অথবা কিছুদিনের জন্য ছেড়ে দিন সাদা চালের ভাত খাওয়া। সাদা চালের ভাতের বদলে বিভিন্ন গম জাতীয় শস্য যুক্ত করে নিন আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায়। তাছাড়া লাল চালের ভাত, গমের রুটি, ওটস, অন্যান্য শস্য যুক্ত করে নিতে পারেন।
  • চিনি জাতীয় খাবার থেকে দূরেই থাকুন অর্থাৎ চিনিকে না বলুন। এছাড়া মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন মিষ্টি, চকলেট, আইসক্রিম, ফিরনী, সেমাই ইত্যাদি থেকে কিছুদিনের জন্য বিদায় নিয়ে নিন।
  • উচ্চ তেলযুক্ত খাবার এবং কোল্ড ড্রিঙ্কসগুলো শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চর্বি জমিয়ে রাখে। যেমন আমাদের পেট কিংবা উরু। সুতরাং বুঝেই ফেলেছেন যে এই খাবারগুলো তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিতে হবে।
  • পেটের মেদ কাটিয়ে উঠতে চাইলে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। তাহলে শরীরের বিপাকের হার বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের বিষাক্ত উপাদানগুলোকে দূর করে দিবে। তাই পানিকে প্রাকৃতিক ক্লিঞ্জার বলা হয়।
  • কাঁচা রসুনের কয়েক কোয়া সকাল বেলা চুষে খান। তারপরে লেবুর সরবত পান করুন। এই চিকিৎসাটি আপনার ওজন কমানোর জন্য সাহায্য করবে এবং শরীরের রক্ত প্রবাহ সহজ করবে।
  • যতদিন পেটের মেদ না কমবে ততদিন নন-ভেজ খাদ্য অর্থাৎ মাংস, মাছ, ডিম, দুধ বাদ দিতে হবে। তবে মাছের টুকরোর চামড়া ফেলে খাওয়া যেতেই পারে।
  • প্রতিদিন সকাল এবং বিকাল এই দুই সময়ে ফল ও সবজি খান। তবে এক্ষেত্রে পানি জাতীয় ফল বাছাই করুন। এই অভ্যাসটি আপনার দেহে এন্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং খনিজলবণ এর ঘাটতি পূরণ করবে।
  • ঝাল খাবার খান। অবাক হচ্ছেন? অবাক হবেন না। ঝাল খাবেন কিন্তু ঝালগুলো আসবে দারচিনি, আদা, গোলমরিচ এবং কাঁচামরিচ থেকে। এগুলো রান্নায় ব্যবহার করুন। এই মশলা স্বাস্থ্যকর। এগুলো শরীরের ইনসুলিন সরবরাহ বাড়ায় এবং রক্তের সুগার লেভেল কমাতে সাহায্য করে। তাই এগুলো ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও বেশ উপকারী।

আরো পড়ুনঃ স্তন বা ব্রেস্ট বড় করার সহজ উপায়

সবকিছু করার পরেও আপনাকে যেটা করতে হবে তাহলো ব্যায়াম। মেদ কমাতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। শরীরকে ঠিক রাখতে প্রতিনিয়ত ব্যায়াম করতে হবে।